নোয়াখালীর চৌমুহনী বাজারে জ্যামের ১০ টি কারণ

 

চৌমুহনীকে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র ধরা হলেও এর প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর বাজারের জ্যাম। যেটি মানুষকে নাজেহাল করছে। দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে কোন বাস চৌমুহনী পূর্ব বাজার পৌঁছাতে ২ ঘন্টা লাগলে চৌমুহনীর ছোট এই বাজারটি পার হতে ১ ঘন্টার উপরে লেগে যাচ্ছে। এমন না যে বাজারটি খুবই বড়। তারপরও কেন চৌমুহনী বাজার সব সময় জ্যাম লেগে থাকে? এর কয়েকটি কারণ আমরা সবাই খেয়াল করলেই দেখতে পারব।

১। পূর্ব বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড

চৌমুহনীর পূর্ব বাজার গেলে কেউ বুঝবে না এটি সিএনজি স্ট্যান্ড, নাকি একটি প্রধান রাস্তা। রাস্তার পাশে দুই সারি করে সিনজি দাঁড়িয়ে থাকে সব সময়। তাছাড়া প্রধান রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিএনজি গুলো যাত্রী ঢাকতে দেখা যায়। কেউ কোন ভ্রুক্ষেপ করে না। সবাই দেখেও না দেখার মত করে চলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখা যায় পুরো রাস্তা খালি কিন্তু গাড়ি যেতে পারছে না শুধু এই সিএনজি ‍গুলোর জটলার কারণে।

২। পূর্ব বাজারের রাস্তার উপরে মাছের বাজার

চৌমুহনীতে বাজারের জন্য আলাদা বিশাল স্থান থাকলেও বেশীর ভাগ বাজার বসে রাস্তার উপর। একে তো সিএনজি,অটো-রিক্সার দাঁড়িয়ে থাকে, তার উপর এই রকম রাস্তায় বাজার বসলে গাড়ি চলার কোন পথ থাকে না। দেখা যায় বড়পোলের পর থেকে অনেকগুলো মাছের বাজার, ফলের দোকান। ক্রেতারা ভীড় করছে এই সব দোকানে। মাঝে মাঝে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে গেলে পুরো রাস্তার উপরে চলে আসে বাজার। তখন এক লাইনেও গাড়িগুলো যাতায়াত করতে পারে না।

teamnoakhali bazar chowmuhani

রাস্তার উপর চলছে বাজার-সদাই।

৩। বড়পোলের তরকারির বাজার

বড়পোল পুরোটাই যেন হকারে তরকারি বিক্রেতারদের নিকট জিম্মি হয়ে রয়েছে। অথচ একটু সামনে গেলেই রয়েছে বিশাল বাজার। বড়পোল, কলেজ রোডের মুখ, ডালিয়া সুপার মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার বেশীর ভাগ স্থান জুড়ে রায়েছে তরকারি আর ফল দোকানদের দখলে।

৪। রেল লাইনের অপেক্ষা

বজারের উপর দিয়ে রেল লাইন আরেকটি সমস্যা। যদিও এই লাইন দিয়ে দিনে ২/৩ তিন বারের বেশী ট্রেন যাতায়াত করে না তারপরও দীর্ঘ জ্যামের কারণে এটি আরো সমস্যা সৃষ্টি করে।

৫। রেল লাইন যেখানে, অটোর স্ট্যান্ডও সেখানে

চৌরাস্তা থেকে চৌমুহনী বা চৌমুহনী থেকে চৌরাস্তা যাতায়াতকারী অটোগুলো রেল লাইনের উপর দিয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে দিক পরিবর্তন করে। এর থেকে বড় কথা,কেউ কোন শৃঙ্খলা মেনে চলে না। যে যেখান দিয়ে পারছে সিএনজি, অটো, মোটর সাইকেল ঘুরাচ্ছে।

৬। রাস্তার উপর যাত্রী নেওয়া

চৌমুহনীর প্রধান সমস্যাই বলা যায় এইটা। চৌমুহনীতে বাস গুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ড নেই। শাহী,জোনাকি বাসগুলো হকার্স মার্কেট এ স্ট্যান্ড করলেও তারা যাত্রী নিতে থাকে একেবারে পূর্ব বাজার পর্যন্ত। মাঝে মাঝে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রীতুলতে গিয়ে জ্যাম বাধিঁয়ে ফেলে।

teamnoakhali trafic

এইভাবেই রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয় বাসগুলো।

৭। যন্ত্রণার নাম সুগন্ধা এক্সপ্রেস

চৌমুহনী জ্যামের আরেকটা উল্লেখযোগ্য কারণ হলো সুগন্ধার বাস গুলোর অবিবেচক যাত্রী উঠানো, উল্টা পাল্টা গাড়ি চালনা, অযথা হর্ন প্রদান। সুগন্ধা গাড়িগুলোর চৌমুহনীতে নির্দিষ্ট কোন কাউন্টার নেই। তারা ডালিয়া সুপার মার্কেটের উল্টো দিয়ে রাস্তার উপর একটা ডেক্স বসিয়ে সেখানে টিকেট বিক্রি করে। আবার লোকাল গুলোর কোন কাউন্টারই নেই। মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রায়ই যাত্রীদের উঠানো নামানোয় ব্যস্ত থাকে। অনেক দূর পর্যন্ত পিছনে গাড়ি আটকে থাকলেও তাদের কোন মাথা ব্যাথা থাকে না। দেখা যায়, সামনে পুরো রাস্তা খালি থাকলেও তারা মাঝ রাস্তায় অনেক্ষণ গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে একটা জ্যাম সৃষ্টি করে।

৮। উল্টো পথে গাড়ি চালনা

সিরিয়াল ধরে এক পাশে গাড়ি চালালে যে জ্যাম দ্রূত ছেড়ে যেত, উল্টোপথে গাড়ি গুলোর যাতায়াতের কারণে আরো বেশী বরং দুই পাশেই জ্যাম লেগে থাকে। সামাণ্য একটু সুযোগ ফেলেই এক পাশের গাড়িগুলো উল্টাপথে ঢুকিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে রীতিমত দুই লেনের গাড়ি হয়ে যায় উল্টো পথে।

৯। পাথচারী চলার রাস্তা নেই

চৌমুহনী বাজারের পথচারীরা চলার জন্য আলাদা কোন ফুটপাত নেই। সকল কিছুই হকার আর দোকানদারদের দখলে। ফলে পথচারীরা রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটা শুরু করে। এর ফলে গাড়ি গুলোর আসা যাওয়া সমস্যা সৃষ্টি হয়।

teamnoakhali traffic chowmuhani

রাস্তাকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে পথচারী পারাপারের ফুটপাত।

১০। অপরিকল্পিত মার্কেট

চৌমুহনী বাজারের উপর যে সকল মার্কেট গড়ে ওঠেছে বেশীর ভাগই রাস্তার সাথে লাগানো। ফলে মার্কেটের মুখগুলো সব সময় লোকের জটলার কারণে রাস্তায় জ্যাম সৃষ্টি হয়।

(Visited 1,266 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *