ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে সঞ্চয় করতে পারে?

 

ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে সঞ্চয় করতে পারে?

 

বর্তমানে তরুনেরা খুবই উচ্চ স্বপ্ন বিলাসী। এইটা দোষের নয়, কিন্তু সেই উুঁচুতে পৌঁছাতে তারা যে পথ অবম্বন করে তা অনেক সময় তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়। কিভাবে আয় করবেন এইটা দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা যতটা খুশি হয়, কিভাবে সঞ্চয় করবেন সেটা দেখে মনে হয় না ততটা খুশি হয়। কিন্তু,বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এত সহজে কোন কিছু অর্জন সহজ নয়। ‍বর্তমানে আপনি যে সেক্টরেরই যান না কেন আপনাকে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হবে। ছোট কিংবা বড় সব ব্যবসায়েই কিংবা সকল চাকুরিতেই এখন প্রচুর প্রতিযোগী। তাই তরুনরা স্কুল কলেজে থাকতে যে স্বপ্ন দেখতে থাকে, পরবর্তীতে তা ছোট থেকে ছোট হতে থাকে। এক সময় গিয়ে সব স্বপ্ন ভুলে গিয়ে বেঁচে থাকাটাই জীবনের লক্ষ্য হয়ে উঠে। প্রয়োজনের তাগিদে তখন ছুটে চলতে হয় অভিরাম। তাই এখন শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, সেই স্বপ্নের পিছনে দৌঁড়ালেও হবে না। এখন লাগবে- একটা বাস্তবভিত্তিক স্বপ্ন, সেই স্বপ্নে পৌঁছ‍াতে একটা পরিকল্পনা আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়।

 

আমাদের তরুন সমাজ বর্তমানে সঞ্চয়ের থেকে খরচে বেশী মনোযোগি। অথচ ছাত্র বয়স থেকেই আপনি গড়ে তুলতে পারেন আপনার ভবিষৎ পরিকল্পনার খুঁটি। আপনার পড়াশুনা অবস্থার সঞ্চয় পরবর্তীতে আপনার জন্য বয়ে আনবে সুযোগ। আর এটা অনুধাবন করে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে স্কুল ব্যাংকিং। অনেক ভাবেই আপনি সঞ্চয় করতে পারেন। ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে সঞ্চয় করতে পারে নিচে তার তিনটি পরিচিত মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

সমিতি

ছাত্র জীবনে আমাদের সবারই একটি বিশ্বস্ত বন্ধুর গ্রুপ থাকে। তারা মিলে কতশত আড্ডায় সময় ব্যয় করেন। তাহলে সেই বন্ধুরা মিলে করে ফেলতে পারেন একটি সমিতি। একজন কলেজ পড়ুয়া ছেলে বা মেয়ে চাইলে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে জমানো কোন বিষয় নয়। আপনারা যদি ১০ জনের একটি বিশ্বস্ত গ্রুপ থাকেন তাহলে প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা করে ১ বছরে ৬০,০০০ টাকা জমা হবে আপনাদের সমিতিতে। এইভাবে পড়াশুনার পাশাপাশি যদি একটি সমিতি দাঁড় করাতে পারেন, আপনার যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌঁছাবেন তখন ২-৩ লাখ টাকা আপনাদের সমিতির সম্পদ হয়ে যাবে। তখন চাইলেই এই সমিতি হয়ে উঠতে পারে আপনাদের ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক ধাপ। এই রকম সংঘবদ্ধতা ছাড়া বর্তামানে ব্যবসায় শুরু করা অনেক কঠিন। কারণ, আপনি চাইলেই বড় কোন পুঁজি পাবেন না। তাছাড়া সবাই মিলে যখন কিছু করবেন তখন একেক জন একেক কাজে পারদর্শী। ফলে সহজেই সফল হওয়া সম্ভব।

 

২। ব্যাংকে সঞ্চয়

একজন ছাত্র পড়াশুনায় অবস্থায় যদি সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহী হয় বুঝতে হবে তার ভবিষৎ পরিকল্পনা খুবই পরিপক্ক এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি চিন্তা করেন, প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে জমানো একজন ছাত্রের জন্য এমন কোন কঠিন কাজ নয়। যারা ধূমপান করেন তারা তা থেকে চাইলেই ৫০০ টাকা প্রতিমাসে বের করে আনতে পারেন। যারা পাবলিক বাসে না ছড়ে রিক্সায় চলাচল করেন তারা চাইলে সেটা থেকে সঞ্চয় করতে পারেন। ব্যাংকের নিজের একাউন্টের সাথে একটা ৫০০ টাকার ডিপিএস করে ফেলুন। দেখবেন টেরও পাবেন না কখন আপনার একটা ভালো পরিমানের ব্যালেন্স ডিপিএস এ জমা হয়ে যাবে। পড়াশুনা শেষে যদি নিজের ছোট কোন পরিকল্পনা থাকে এই টাকা দিয়েই শুরু করতে পারবেন।

 

৩। পারিবারিক সঞ্চয়

বর্তমানে অনেক পরিবারেই দেখবেন সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগ দেয়। আপনি ছাত্র অবস্থায় চাইলে পরিবারে এই ধারাটা সৃষ্টি করতে পারেন। ধরুন আপনার পরিবারে আপনার বাবা ইনকাম করেন, আর আপনারা দুই ভাই-বোন টিউশনি করান। তাহলে নিজেদের মধ্যে প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জামানোর চেষ্টা করুন। তাহলে পরবর্তীতে পরিবারের বিপদে আপনাদের এই টাকাটা কাজে লাগবে। কিংবা নির্দিষ্ট কোন একটা সম্পদ ক্রয়ে কাজে লাগাতে পারবেন।

 

সত্যি বলতে আপনি সঞ্চয় করতে চাইলে এই রকম হাজার রকম পরিকল্পনা করা সম্ভব। আর এটাই বাস্তব যে, বর্তমানে সঞ্চয়ের কোন বিকল্প নাই। তাই আপনার ছাত্র বয়স থেকেই সঞ্চয় করা শুরু করুন। আপনার পরবর্তী স্বপ্বের পথে এটি বড় সহযোগি হয়ে দাঁড়াবে।

(Visited 64 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *