তুমি কি কুমারী? প্রমাণ দাও নারী-কুমারিত্ব প্রমাণে নতুন পিল

‘তুমি কি কুমারী? প্রমাণ দাও নারী।’

আই ভার্জিন পিল

একটা সময় নারীদের কুমারীত্ব পরীক্ষা দিতে হতো তার বাসরে! যে নারী আরেকজন পুরুষের সাথে জীবনে প্রথম রাত কাটাবে সেখানে তাকে পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হতো কতটা রক্তাক্ত হয়েছে? যে নারী রক্তাক্ত হয়নি ,সে সতী নয় বলে ধরেনই নিত। কি আজব ছিল, বিচানার সাদা চাদরটা পরীক্ষা করা ছিল নারীরর সত্তীত্ব পরীক্ষা।

“ছিল” বলছি কেন? এখনও কি নারী সেই পরীক্ষার বেড়াজাল থেকে বেরুতে পেরেছে? না পারেনি! আর পারেনি বলেই নারী আজ ব্যবহার করতে হচ্ছে ‘আই ভার্জিন পিল’। ক্রমাগত পুরুষের ছোট করে কথা বলা তাদেরকে এই পিল গ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রথম শারীরিক মিলনের রাতে মেয়েটিকে রক্তাক্ত হতেই হবে— এ সংস্কার শুধুই তৃতীয় বিশ্বের নয়, বরং অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও এই ধারনা বহন করে চলেছে যুগের পর যুগ ধরে। কখনও সরাসরি, কখনও ঘুরপথে।

আই ভার্জিন পিল কি?

অ্যামাজনের সাইটে মিলছে এই ‘আই ভার্জিন পিল। স্রেফ এক পিলেই শরীরে জমে যাবে পরিমাণ মতো থকথকে ‘নকল’ রক্ত। প্রথম সঙ্গমের পরেই যা সতীচ্ছদ ভেদ করে বেরিয়ে আসবে ‘মিথ্যে’ কুমারীত্বের ‘প্রয়োজনীয়’ প্রমাণস্বরূপ!  প্রয়োজন পড়ে না কোনও কাটাছেঁড়ার। অজ্ঞান করারও প্রয়োজন নেই।এটি হলো এমন এক ধরনের পিল যেটি কৃত্রিম রক্তের জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। ফলে শারীরিক সম্পর্কের সময় এটি বের হয়ে যেটি পুরুষদেরকে বিশ্বাস করাতে সাহায্য করে যে সেই নারী সতী।

অ্যামাজনের ‘আই ভার্জিন পিল নিয়ে চলছে সমালোচনা

এই পিল অবিশ্বাস ও মিথ্যাচার দিয়ে সম্পর্ক শুরুর দিকেই তো নিচ্ছে। নারীর কুমারিত্ব অনেক কারণেই বিয়ের আগে শেষ হতে পারে। এইটা একটা জিনিস যা একটা বয়সের পরে যে কোনও কারণে ফেটে যেতে পারে। যৌন সংসর্গে কুমারীত্বের মতো অপ্রয়োজনীয় ও ভিত্তিহীন বিষয়ের সঙ্গে প্রেম, ভালবাসা গুলিয়ে ফেলার মতো ভুল আজও এই সমাজে প্রবলভাবে প্রচলিত। আমাদের শিক্ষিত সমাজেও অবশ্য এমন ভাবনা দেখা যায়।

কুমারীত্বের প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে বলার সময় এসেছে।কুমারী না হলে ভালবাসা কমবে!- এটি যে মেযেটার বিশ্বাস। আর ছেলেটি ভাবছে, কুমারী হয়ে ধরা দেওয়াই ভালবাসার প্রাথমিক শর্ত! নতুন এই পিল আমাদেরকে পরোক্ষ ভাবে আবার সেই ধ্যান ধারনার প্রতি প্রবল বিশ্বাস করতে বাধ্য করতে শুরু করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুক হ্যাকিং রোধ করবেন কিভাবে?

ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা

নারীকে তার সত্বীত্ব পরীক্ষা দিতে হবে এই ধারণা মোটামুটি সব ধর্মের লোকরাই বলে থাকেন। বিশেষ করে আমাদের এশিয়া মহাদেশে।তারা একবারও ভাবে না, নারীর রক্ত ঝরার মাঝে সত্বীত্ব লুকিযে নেই। অনেকেও বুঝেও সমাজের প্রচলিত ধারনাটাকে মাথা থেকে সরাতে পারে না। আর এই ধারনাকে পুঁজি করে চলে এলো ব্যবসার চরম এক সম্ভাব্য বাজার! আই ভার্জিন পিল হলো তার নতুন সূচনা।

অন্যমতও রয়েছে

সমাজের যে অংশ আজও মনে করে, কুমারীত্ব একটা বড় ফ্যাক্টর। তারা মনে করে এই পণ্য নারীদেরকে আরো স্বাধীন করে দিল।ভার্জিনিটির যে দোহাই দিয়ে নারীরা স্বেচ্ছাচারী হতে ভয় পেতেন, এ বার সে ভাবনাও চলে গেল। মেয়েদের কুমারীত্ব হারানোর ভয় আর যেখানে নেই, সেখানে তা টিকিয়ে রাখার দায়ও আর তাদের থাকবে না।

হতে পারে স্বাস্থ ঝুঁকির কারণ

আমরা তো হারহামাশাই দেখি সম্পূর্ণ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়া এক ফাইলেই যথেষ্ট বিভিন্ন হারবাল এর বিজ্ঞাপন। কিন্তু আসলে কি সেগুলো নিরাপদ বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়া? মোটেও না।তেমনি, ‘আই ভার্জিন পিল’ যারা তৈরি করেছেন তারা যতই বলুক এটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন সেটা সঠিক নয়।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মৃদুলা হাজরা মনে করেন-

ওষুধের সংস্থা যা-ই দাবি করুক না কেন, সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এমনটা কখনও বলা যায় না। হয়তো এই পিলের বিভিন্ন উপাদান মোটের উপর নিরাপদ, কিন্তু একটা ওষুধ শরীরে প্রবেশ করে হরমোনাল নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নকল রক্তের জমাট কণিকা তৈরি করে তাকে শারীরিক সম্পর্কের পর পরই ঠেলে দেবে যোনিমুখে। এই জিনিসটি কখনওই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন, খুব ‘সাধু গোছের’ হতে পারে না। নকল এই রক্ত শরীরে ধারণ করায় অনেকেরই নানা অ্যালার্জি, সংক্রমণ ও প্রদাহের ভয় থাকে। শরীর অনুপাতে সেই আশঙ্কা বাড়ে-কমে। আমি তো রীতিমতো শঙ্কায়, এ বার এই ওষুধটি কেউ ব্যবহার করেছেন কি না এটা জানার জন্য হয়তো রক্ত পরীক্ষাও চলে আসবে! একটি মেয়েকে যত ভাবে পারা যায় স্ক্যান করে, অবিশ্বাস করে তাকে নরকের দ্বার করে তোলারই নামান্তর এ সব ওষুধের বিক্রি। বেশির ভাগই চিকিৎসকদের পরামর্শ বিনা এ সব ওষুধ খাবে ও সমস্যাতেও পড়বে। এমনকি, এ থেকে ভবিষ্যতে যৌন মিলনের সময় নানা সমস্যাও জন্মও নিতে পারে।’’

আই ভার্জিন পিল আমাদেরকে আরেকবার দেখিয়ে দিচ্ছে এখনও কতটা নারীদেরকে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে হয় রক্তাত্ব হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই ধারনার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

(Visited 247 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *