নতুন জেলা প্রশাসকের জন্য চ্যালেঞ্জ গুলো কি হব??

নোয়াখালী জেলার নতুন জেলা প্রশাসক হলেন জনাব খোরশেদ আলম খান। তিনি পূর্বের ডিসি জনাব তম্নয় দাশের স্থলাভিষিক্ত হলেন। জনাব তন্ময় দাশ নোয়াখালীবাসির মনে আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন তার কাজের মধ্য দিয়ে। তিনি বিভিন্ন দৃশ্যমান কাজ করে মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে গেছেন। বিশেষ করে নতুন সমাজের মাঝে তিনি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটা সেতু তিনি করতে পেরেছেন। মানুষ এক সময় জেলা প্রশাসন ভবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে যেতেন না। কিন্তু তম্নয় দাশ মানুষের মাঝে তৈরি করতে পেরেছেন, জেলা প্রশাসন ভবন জনগণের জন্য উন্মূক্ত। মানুষকে তিনি যেমন ভালোবেসেছিলেন, তারাও তাকে প্রতিদান দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছে।

মুসাপুর ক্লোজার হয়ে উঠছে জনপ্রিয় বিনোদন স্পট 

তন্ময় দাশের সবচেয়ে আলোচিত কাজের মধ্যে ছিল কয়েকদিন পরপর ভেজাল বিরোধী অভিযান। খাল পুনরুদ্ধার, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষামান উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং, তরুনদের কাজে লাগাতে উনি সব সময় তাদেরকে নিয়ে কাজ করতেন। সবচেয়ে বড় কথা, ওনি ওনার কো-ওয়ার্কারদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। তাদেরকে টিমে কাজ করার জন্য উদ্ভূত করতে পেরেছিলেন।

নতুন ডিসি’র জন্য চ্যালেঞ্জ

নতুন ডিসি জনাব খোরশেদ আলমও তার পূর্বের কর্মস্থলে সুনামের সাথে ছিলেন। এখন দেখার বিষয় হলো তিনি কি জেলা প্রশাসন ভবন সকলের জন্য উন্মূক্ত পরিবেশটা বজায় রাখতে পারবেন? তিনি কি চার লেনের কাজে দ্রূততা আনতে পারবেন? তিনি পূর্বসূরির মত নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে পারবেন? ওনি কি তার আওয়তায় কাজ করা সকলের মাঝে টিমস্পিটটা ধরে রাখতে পারবেন? কিংবা জেলার যে সকল প্রকল্প আটকে আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবেন?

আরো বেশী কিছু চাই

আমরা নতুন জেলা প্রশাসকের নিকট পূর্ববর্তী ডিসি’র থেকেও ভালো কিছু আশা করি। আমরা চাই ওনি আরো বেশী ভেজাল বিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করুক। জপলার মানুষ সরকারি যে সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত তা নিয়ে কাজ করুক। আমাদের হাসপাতালে গরু পালন করা হয়, সেখানে দৃষ্টি দিক। আমরা চাই জেলার সকল মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করুক। দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে মানুষের সেবা করক।

এক নজরে নতুন জেলা প্রশাসক

ব্যক্তিগত পরিচিতিঃ

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান’র বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা গ্রামে।

শিক্ষাজীবনঃ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি পাশ করেন।পটিয়া সরকারী কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে বি,এস,সি ও এম,এস,সি ডিগ্রী অর্জন করেন।

পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ বেডফোর্ডশায়্যার থেকে ইনফরমেশন সিস্টেম এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নেওয়া জনাব খোরশেদ ২২ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন গর্বিত সদস্য।

কর্মজীবনঃ

খোরশেদ আলম খান এর আগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও বুড়িচং উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যশোর এ যোগদান করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার সদর, লংগদু-রাঙ্গামাটি, হোমনা-কুমিল্লা এবং চকোরিয়া-কক্সবাজারে সুনামের সাথে দায়িত্বপালন করেন।

 জনাব খান দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের উপসচিব ও ডোমেন স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। মূলত তার সুদক্ষ নেতৃত্বেই বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত “ই-নথি সিস্টেম” ডেভেলপমেন্ট হয় এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহযোগীতায় তার টিম দেশের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর সহ সর্বমোট প্রায় চার হাজার সরকারী দপ্তরে ই-নথির সফল বাস্তবায়ন করে।
সর্বশেষ তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তফা জব্বার এর একান্ত সচিব হিসেবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

নতুন জেলা প্রশাসকের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো।

(Visited 54 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *