বিভাগের আন্দোলন বৃথা গেল?

১৯৯০ সাল থেকে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ নোয়াখালীকে বিভাগ করার জন্য আন্দোলন করে আসছে। এর প্রধান কারণ এই অঞ্চলের অথনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং নাগরিক সুবিধা পেতে মুখিয়ে আছে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ।

সরকারের ভিশন ২০২১ কিংবা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো দেশের সকল মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া।অফিস গুলোকে ডিজিটালাইজেশন করা। আর এই কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন বিভাগীয় প্রশাসনিক নজরদারি।যেটি “নোয়াখালী বিভাগ” বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সম্ভব।

কেন বিভাগ প্রয়োজন?

বিভাগ  হলো একটি তদারকি স্তর। সাধারণ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার তদারকির কাজ ছাড়াও ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু আপিল নিষ্পত্তি করে থাকেন।তদারকি স্তর হিসেবে বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভাগীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজ পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করে অধিকতর উন্নতি বিধানের জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। মূল্যায়ন করেন তাঁদের কার্যক্রম। তাঁরা জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সঙ্গে  সংযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। তাই নোয়াখারী বিভাগ বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের সকল অফিস-আদালতের কার্যক্রম দ্রুততা পাবে।

বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে অনেক শিল্পপতি থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা এই অঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারছে না।বিভিন্ন রকম প্রশাসনিক কাগজপত্রের ঝামেলার জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকায় দৌঁড়ঝাঁপ করতে হয় বলে তারা ঢাকা বা চট্টগ্রা্মমুখী কলকারখানা গড়ে তুলছে। ফলে সরকার বিকেন্দ্রীকরণের যে চিন্তা করছে তা আর হয়ে ওঠছে না। সরকার যদি উক্ত এলাকে বিভাগ ঘোষনা করে তাহলে সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম সহজ হয়ে যাবে। ফলে তাদেরকে আর ঢাকায় বা চট্টগ্রামে দৌঁড়াঝাঁপ করতে হবে না। এই ঝামেলা থেকে নিস্তারের  ফলে তারা নিজ এলাকার ভূমি ব্যবহার করে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার চিন্তা করবে।

যেহেতু নোয়াখালীর চর এলাকায় এখনও প্রচুর নতুন চর জাগছে। ফলে এই এলাকার আয়তন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল ধীরে ধীরে আয়তনে বড় হচ্ছে। তাই পরবর্তীতে হলেও নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করতে হবে। তাই যেটি পরে হলেও করতে হবে সেটি এখন না করে সরকার নিশ্চিই নিবুদ্ধিতার মত কাজ করবে না। তাছাড়া নতুন গজানো এই সকল চরকে  যথাযথ ব্যবহার করতে হলে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা।যদি “নোয়াখালী বিভাগ” বাস্তবায়ন করা হয় তখন সহজেই এই সকল নতুন গজানো চর এলাকার সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করা যাবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে কাজ করতে পারবে, যেটি আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

বর্তমানে নোয়াখালী চট্টগ্রাম বিভাগের আওয়াতাধীন। যার কারণে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সত্যিকার অর্থে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাতে পারছে না।বরাদ্দকৃত টাকা সময়মতো ছাড় না হওয়াও একটি বড় সমস্যা। অর্থবছরের এমন এক সময়ে টাকা মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তড়িঘড়ি করতে গিয়ে আর মানসম্মতভাবে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায় না। তাই “নোয়াখালী বিভাগ” হলে বিভাগীয় কার্যক্রমে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় সেটা লক্ষ্য ও তদারকি করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ মাইজদী কোর্ট বিল্ডিং দীঘি-পৌর পার্ক

বিভাগ ঘোষনা করা হলে বিভিন্ন সরকারী অফিসগুলো এই অঞ্চলে গড়ে ওঠবে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আঞ্চলিক অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , কলকারখানা পরিদর্শন অফিসসহ বিভাগীয় শহরের জন্য বিভিন্ন অফিস স্থাপন হবে  এই অঞ্চলে।  প্রশাসনিক সকল সুবিধা ফেলে মানুষ নিজ উদ্যোগেই অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিবে।

এই অঞ্চলের বেশীর মানুষ ভাগ প্রবাসী। তাদের প্রেরিত অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে যে হারে অবদান রাখার কথা সেভাবে অবদান রাখছে  না। এর প্রধান কারণ হলো- এদের আয়ের বেশীরভাগ অংশ এরা ব্যয় করে ফেলে। পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ কোনো আয় ভিত্তিক কাজে বিনিয়োগ করতে পারছে না। যদি বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে বিভাগ ঘোষনা করা হয় তাহলে এই অঞ্চলে আরো বেশী শিল্প করখানা গড়ে ওঠবে। ফলে প্রবাসীরা তাদের প্রেরিত অর্থ বিভিন্ন আয়মূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারবে। বেকার  তরুনরা আউটসোসিং সহ বিভিন্ন রকম আত্মউন্নয়নমুখী কাজ করবে।এতে এই অঞ্চলের মানুষের বেকারত্বের হার শূণ্য কোটায়ও নেমে আসার সম্ভাবনা আছে।

এই অঞ্চলের প্রবাসী আয়কে বিনিয়োগে কাজে লাগাতে চাইলে, নতুন গজানো দ্বীপগুলোকে কাজে লাগাতে চাইলে  সরকারকে এখনই “নোয়াখালী বিভাগ” ঘোষনা করা উচিত। আর আমরা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী আমাদের উন্নয়নের জন্য যে সংগ্রাম শুরু করেছি  দাবী আদায় পর্যন্ত তা চালিয়ে যাব।

(Visited 14 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *