ভালো পিতা-মাতার গুণগুলো যা সন্তানের মঙ্গল বয়ে আনে

 

প্রত্যেক পিতা মাতাই তার সন্তানে ভালে চায়। তবে সবাই ভালো পিতা মাতা হয়ে উঠতে পারে না। সাবার মধ্যে ভালো পিতা-মাতার গুণগুলো থাকেও না। তারপরও ,পিতা-মাতা চায় তাদের সন্তান সেরাদের সেরা হোক। তাদের পচন্দের মত করে বেড়ে উঠুক। কিন্তু, অনেক সময় তারা সন্তানদের  ভালো করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ক্ষতি করে পেলে। এর প্রধান কারণ অতিরিক্তমাত্রার কঠোরতা, সব সময় নিজের ইচ্ছে সন্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়া, সন্তানের ইচ্ছেকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের পছন্দ-অপছন্দ চাপিয়ে দেওয়া। এই সব থেকে ছেলে মেয়েরা অনেক সময় নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলে অন্ধকারে। তখন তারা না পারে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে, না পারে নিজের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হতে।

বর্তমান সময়ে ছেলে-মেয়েদের বড় করে ত‍ুলতে, সমাজের প্রতিষ্ঠিত করতে সন্তানের উপর শুধু খবরদারি করলে হবে না। বাবা-মাকেও হয়ে উঠতে হবে আরো সতর্ক।

নিচে কয়েকটি বিষয় আপনাকে ভালো বাবা-মা হয়ে উঠতে সহযোগিতা করবে।

 

১. সন্তানের জন্য মডেল/ অনুসরনীয় হোন

 

সন্তানের কাছে নিজে উদাহরণ হওয়ার চেষ্টা করুন। আমাদের সন্তানেরা আমাদেরকেই অনুসরণ করে বেড়ে উঠে।একটা সন্তান ছোট বেলা থেকে বেড়ে উঠে তার বাবা-মায়ের আচার আচরণ, ভাবনা ও কার্যকালাপ দেখে। ছেলে-মেয়ের কাছে নিজেদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করবেন তারাও সেটাই অনুসরণ করবে। ভালো বাবা-সায়ের প্রথম গুণই হচ্ছে সন্তান যাতে তাকে রোল মঢেল মনে করে সেই কাজগুলো করা।

 

২. ভালোবাসুন সন্তানকে

 

আমাদের সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে অতি আদরে ছেলে মেয়ে মাথায় উঠে। সেটা হয়ত অনেকাংশে সত্য। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনি তাদেরকে সব সময় শাসনে রাখবেন। সন্তানকে ভালোবাসুন। তাহলে তারা  মানুষকে ভালোবাসতে শিখবে।তারা নিজেদেরকে বিকশিত করতে পারবে।

 

৩. কম প্রত্যাশা করুন

 

আমাদের বাবা মায়েদের প্রধান যে সমস্যা সেটা হলো তারা তাদের সন্তান থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রত্যাশা করে। নিজেদের পাওয়া না পাওয়া গুলো সন্তানের মাধ্যমে পেতে চায়। এতে করে সন্তান যদি বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারে তাহলে নিজেরে মনোবল হারিয়ে ফেলে। পরে না পারে বাবা-মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে , না পারে নিজের স্বপ্নকে প্রকাশ করে সেই অনুযায়ি এগিযে যেতে। তাই সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা আজই ত্যাগ করুন।

 

৪. ইতিবাচক মনোভাব

 

সন্তানের সাথে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন। তাকে কোন কিছুতে নিষেধ করলে সরাসরি নিষেধ না করে তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন এইটা তার জন্য ভালো হবে না। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করুন। তার ইচ্ছেগুলোকে প্রাধাণ্য দিন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যের সমস্যাগুলো ছেলে মেয়েদের সামনে না আনতে চেষ্টা করুন।

 

৫. তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হোন

 

অনেক বাবা মা ই তাদের সন্তানের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন না। সন্তানকে উৎসাহ দিন তার সমস্যাগুলো আপনার সাথে শেয়ার করতে। বিশেষ করে, মেয়ে শিশুরা ‍ানেক সময় পরিবারের কাছের কোন লোক দ্বারা নিপীড়িত হরেও ভয়ে কাউকে বলে না। তাই তাদেরকে সাপোর্ করুন। অনেক সময় মেয়েরা বাবা-মাকে কোন একটা বিষয় শেয়ার করলে তাদেরকে সাপোর্টের পরিবর্তে লোক চক্ষুর ভয়ে চুপ করিয়ে রাখে। এতে হিতে বিপরীত হয়। তাই, আপনার সন্তানকে সাপোর্ট করেন, তাকে সহযোগিতা করুন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।

 

৬. সিদ্ধান্ত গ্রহনে তার সহযোগিতা নিন

 

এটি যদিও আমাদের সমাজে প্রচলিত নয়, কিন্তু এটি আপনার সন্তানকে ভবিষৎ এ সিদ্বান্ত নিতে সহযোগিতা করবে। বড় কোন সিদ্বান্তের কথা বলছি না, দেখা যাচ্ছে, বাসায় চোপা কিনবেন, টিভি কিনবেন অথবা বাসার রং পরিবর্তন করবেন, এইসব ক্ষেত্রে ছেলে-মেযেদের মতকে প্রাধাণ্র দিরে তাদের মধ্যে সিদ্বান্ত নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী জীবনে ভালো করে।

 

এগুলোর বাহিরে পিতামাতার আরো অনেক দ্বায়িত্ব রয়েছে।তাই, নিজের সন্তানের ভবিষৎ বিনির্মাণে একজন ভালো পিতা-মাতার গুণগুলো সবার থাকা উচিত।

(Visited 28 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *