মাহবুব কবির মিলন সাহেবকে ওএসডি করা ঠিক হয়েছে

আমি মনে করি মাহবুব কবির মিলন সাহেবকে ওএসডি করা একদম ঠিক হয়েছে। যে সিস্টেমে ভালো কাজ করার লোক নগণ্য সেখানে দুএকজন ভালো কাজ করতে চাওয়াটা অপরাধ। অপরাধ এই কারণে যে তিনি যাদের জন্য ভালো কাজ করছেন তারা কি ঠিক? আচ্ছা,  আজ মিলন সাহেবকে নিয়ে কারা বেশী স্যোস্যাল মিডিয়া মাতাচ্ছে?  দেখলাম যারা তার পক্ষে কথা বলছেন সবাই কোন কোন জায়গায় খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। তার মানে তারাও চায় ভালো মানুষ গুলো সিস্টম পরিবর্তনেে এগিয়ে আসুক।  এর অর্থ তারাও ভালো কিছু করতে চায়, তাদেরও ইচ্ছে হয় সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে। তাহলে তারা করছে না কেন? কেন তারা মিলন সাহেবের মত ভালো কাজ করতে গিয়ে ওএসডি হওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে কলম ইস্তফা দিচ্ছে না। কেন বলছে না সততার পুরষ্কার যদি এইটা হয়, আজ থেকে আমার কলমও আর কথা বলবে না।

তাহলে কি সিস্টেমে কোন ভালো লোক নেই? থাকলে কেন ভয় পাচ্ছেন? চাকরি চলে যাবে? যদি চাকরির ভয়ে এখন প্রতিবাদ না করেন তাহলে আপনিও একজন অসৎ এর কাতারে পরে গেলন। আপনি মনে মনে সৎ, আসলে আপনি সুযোগ সন্ধানী। আপনিও লোভী।

যদি সিস্টেম পরিবর্তন করতে চান, যদি চান আমাদের সকল সেক্টরে ভালো মানুষগুলো আসুক, তাহলে আপনাকে এখনই প্রতিবাদ করতে হবে, এখনই বলতে হবে সততার পুরষ্কার যদি এইটা হয় আমরা সৎ মানুষগুলো আর এখানে থাকব না। যদি সিস্টেমের পরিবর্তন চান আজই আওয়াজ তুলতে হবে, আজই বলতে হবে অন্যায়ের জন্য আমরা ন্যায়কে বিসর্জন দিতে পারব না। যে যেখানে থেকে সততার জন্য, ভালোর জন্য লড়াই করছেন সেখানেই বসে পড়েন, সেখানেই আওয়াজ তুলুন। এইটা কোন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ নয়, এইটা আমাদের সততা প্রতিষ্ঠার আওয়াজ।   এইটা আমাদের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ।

এই আওয়াজের শব্দ যত প্রখর হবে, এই আওয়াজ যত মানুষ সূর মিলাবে দূর্ণীতি ঠিক তত দূরেই সরে যাবে। আপনাদের এখনই সৎ সাহস দেখানোর সময়। না হলে,  আপনিও ভালো করতে গেলে , আপনার চারপাশের সিস্টেম আপনাকে পিছনে টানবে। দেশের মানুষের কথা, নিজের অবস্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হলেও প্রতিবাদ করুন। প্রতিবাদের আওয়াজটা এত প্রখর হওয়া চাই যাতে অসৎরা ভয়ে কাঁপতে থাকে, তাহলেই তো সিস্টেম পরিবর্তন হবে। আপনার এখনই সময়, চলুন একসাথে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। মিলন সাহেবদের মত সৎ মানুষদের জন্য আমরা যখন এক হয়ে লড়াই করতে পারব, তখনই দূর্নীতিবাজরা ভয় পাবে। তখনই আমাদের সিস্টেমে পরিবর্তন আসবে।

মাহবুব কবির মিলন… একজন এডিশনাল সেক্রেটারি

উনি যে মন্ত্রণালয়েই গিয়েছেন, আগাছা সাফ করে সেই মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।হার্টের রিং বাণিজ্য বন্ধের পিছে এই মিলন ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে।দেশ থেকে ফরমালিন দূর করতে তিনি লড়ে গেছেন।ঘন চিনির নামে রাসায়নিক আমদানি একমাত্র তিনিই বন্ধ করতে পেরেছিলেন।গত সপ্তাহেও বিকাশের প্রতারণা বন্ধের জন্য মাল্টি ডিভাইস লগ ইন বন্ধ করাটা উনার হাত দিয়েই শুরু হয়েছে।উনি সব সময়ই ভোক্তা অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন।

আমাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রীতিমত রাস্তায় নেমে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, বিষাক্ত এমবিএম ফিড বন্ধ করেছিলেন, রেষ্টুরেন্ট গুলোতে পরিচ্ছন্নতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করেছিলেন… আর হঠাৎ  করেই উনাকে থামিয়ে দেয়া হলো।বদলি করে দেয়া হলো ৩ মাস আগে।

সেখান থেকে দেয়া হলো রেল মন্ত্রণালয়ে… এখানে এসেও রেলওয়ের টিকেট দূর্নীতি এবং তিন মাসের মধ্যে রেলওয়ের দূর্নীতি কে বন্ধ করতে চেয়েছেন, রেলে স্বচ্ছ নিয়োগ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। রেলের টিকেট চোরাকারবারীদের ভাত মেরে তিনি নাম, ভোটার আইডি নাম্বার সম্বলিত অনলাইন টিকেটের প্রচলন করার কাজ শুরু করেছেন মাত্র।এখানেও থামিয়ে দেয়া হলো। এখানে এসে তাকে একদম ফাইনালি থামিয়ে দেওয়া হলো। উনাকে ওএসডি করা হয়েছে।

(Visited 39 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *