মোহাম্মদ ইব্রাহিম || বীর বিক্রম || নোয়াখালীর গর্ব

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীর পরাধীনতার শেকড় থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ভাষা আন্দোলনের মধ্য ‍দিয়ে শুরু হয়ে একাত্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দিয়ে শেষ হয়। সেই রক্তক্ষয়ি যুদ্ধে বাংলার অগণিত মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল ভয়াবহ করুণ পরিনতি। বাংলার প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে কোন কোন কোন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের সবাই সম্মুখ যুদে।ধ অংশ গ্রহন না করলে কোন কোন ভাবে পাশে ছিল যোদ্ধাদের। যার যা কিছু ছিল তাই িনিয়েই শক্রুর মোকাবেলা করেছে। এনেছে স্বাধীনতার সূর্য।

এই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নোয়াখালীর অনেক বীর সৈনিক তাদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের বীরত্বের কথা নোয়াখালীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। তারা যাতে জানতে পারে বীরশ্রেষ্ঠ থেকে শুরু করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা সবাই আছে আমাদের নোয়াখালীতে। শুধু বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নয়, আরো অনেক বীরের জীবন নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। আজকে আমরা আরেক বীর সেনা মোহাম্মদ ইব্রাহিম (বীর বিক্রম) সর্ম্পকে জানব।

আরো পড়ুনঃ বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন || নোয়াখালীর গর্ব

নাম

মোহাম্মদ ইব্রাহিম

জন্মস্থান

নোয়াখালীর এই বীর সন্তান নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

জন্ম‍ সাল

১৯৩৫ সালের ১ লা জুন।

যে কারণে পরিচিত

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ  উপাধি “বীর বিক্রম”  উপাধিতে ভূষিত করা ।

পরিবার পরিচিতি

পিতা: আইয়ুব আলী

মাতাঃ হালিমা খাতুন

স্ত্রীঃ সাফিয়া বেগম

সন্তানঃ ছয় মেয়ে ও এক ছেলে

কর্মজীবন

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরি করতেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম ।

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর হামলার সময় মোঃ ইব্রাহীম যশোরেই অবস্থান করছিলেন।যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন।প্রথমে যশোর বেনাপোল এলাকায় প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি সামান্য আহত হন। কিন্তু সেটি তাকে দমাতে পারেনি। পরবর্তীতে তিনি জামালপুর, সিলেট, মৌলভিবাজার সহ আরো কয়েকটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। 

আরো পড়ুনঃ একুশে বই মেলার সূচনা নোয়াখালীর যার হাত ধরে

চার্লি কোম্পানির একটি প্লাটুনের নেতৃত্ব ছিল ইব্রাহীমের কাঁধে

সিলেটের জকিগঞ্জ থানার জকিগঞ্জ সদরের উত্তর দিকে আটগ্রাম ও চারগ্রাম নামে দুটো গ্রামের অবস্থান। এই দুটি স্থানেই পাক বাহিনীর সেনারা ক্যাম্প করেছিল। সেখান থেকে তারা মুক্তিযাদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করত।সেখানে মূলত ছিল পাক সেনাবাহিনীর পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সেনা। মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্রাভো ও চার্লি কোম্পানি নামে দুটো ভাগ ছিল। এই দুটো কোম্পানি প্রথম আটগ্রাম ও চারগ্রামে আক্রমণ করে। সেখানে চার্লি কোম্পানিতে একটি প্লাটুনের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

পাক বাহিনীর উপর ঝটিকা আক্রমণ

 ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর আটগ্রামে ও চার গ্রামের  মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যায়।এর একটি দলের নেতৃত্বে ছিল মোঃ ইব্রাহীম।

তিনি তাঁর দল নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ শুরু করলে অন্যান্য দলগুলোও চারদিক থেকে আক্রমণ শুরু করে। এতে করে পাকিস্তানি সেনারা হতভম্ভ হয়ে যায়। এই চর্তুরমুখি ঝটিকা আক্রমণে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকজন সেনা নিহত হলো। আহত হলো বেশ কজন। কিছুক্ষণ প্রতিরোধ চালানোর পর বাকি পাকিস্তানি সেনারা  মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আর কুলিড়ে উঠতে পারছিল না। ফলে বাকি সেনারা পালিয়ে গেল। যাওয়ার সময় ফেলে গেল বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ।

শত্রুদের পরাস্ত করে সংগ্রহ করলেন অস্ত্রশস্ত্র

১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চারগ্রাম ও আটগ্রাম এলাকার শত্রুঘাঁটির ওপর আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সব কমান্ডিং অফিসার প্রস্তুতি শুরু করে। এই জন্য সবগুলো কোম্পানির কমান্ডারগণ এলাকাটি ভালোভাবে রেকি করেন। এই কমান্ডার গ্রুপে ছিলেন মোঃ ইব্রাহীমও। ২২ নভেম্বর সকালে বি কোম্পানি  নিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ  আর্টিলারির সাহায্যে চারগ্রামে অবস্থানকারি পাকিস্তানি ঘাঁটি আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশলের কাছে হারতে থাকে পাক বাহিনী। সারা দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা। ঐ ঘাঁটিটি দখল করে নেন। এই যুদ্ধে শত্রু পক্ষের প্রায় ৩০ জন নিহত ও আহত হয়।কয়েকজন পাকসেনাকে  জীবিত অবস্থায় বন্দী করা হয়। পাক বাহিনীর এই ঘাঁটিতে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাগুলি, খাদ্যদ্রব্য এবং যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা সেগুলো দখল করে।

এই সফল আক্রমনে আমাদের বীর সেনা মোঃ ইব্রাহীমও ছিলেন। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতে দক্ষ ছিলেন।এইভাবেই যুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি শত্রু বাহিনীকে মোকাবেলা করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ বজরা শাহী জামে মসজিদ || নোয়াখালী

মৃত্যু

 ২৫ মার্চ, ২০০৯

সম্মানা

বীর বীক্রম

আমরা এই মহান ব্যক্তির দেশের প্রতি অবদানকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণকরে যাব সারা জীবন।

নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধা  নিয়ে আমাদের আয়োজন চলবে। আপনার কোন অভিমত থাকলে জানাতে পারেন।

(Visited 518 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *