শহীদ আবুল বাশার || বীর বিক্রম || নোয়াখালীর গর্ব

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নোয়াখালীর সন্তান শহীদ আবুল বাশার  এর  অবদান অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে। নোয়াখালীর অনেক বীর সন্তান তাদের জীবন দিয়ে দেশ মাতৃকার জন্য লঢ়ে গেছেন। আজ আমরা এই কৃর্তীমান সম্পর্কে জানব।

নাম‍

আবুল বাশার

জন্মস্থান

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার বদলকোট গ্রামে এই কৃতি সন্তান জন্মগ্রহন করেন।

জন্ম‍ সাল

অজানা

যে কারণে পরিচিত

নোয়াখালী জেলার একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ  উপাধি “বীর বিক্রম”  উপাধিতে ভূষিত।

পরিবার পরিচিতি

পিতা: আবদুল লতিফ মুন্সি

মাতাঃ তাজকেরার নেছা।

স্ত্রীঃ রৌশনারা বেগম

সন্তানঃ দুই ছেলে ও তিন মেয়ে

কর্মজীবন

আবুল বাশার ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু তখন ইপিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এ চাকরি করতেন। তিনি কুমিল্লা উইয়িং এ কর্মরত ছিলেন।১৯৭১ সালের যুদ্ধ শুরু হলে দেশের জন্য শক্রুর বিপক্ষে ঝাপিড়ে পড়েন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী নির্মম গণহত্যার পর আবুল বাশার তার কর্মস্থলে আর চুপ করে বসে থাকতে পারেন নি। নিজের দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যোগদেন মুক্তিযুদ্ধে।

বিবির বাজারের প্রতিরোধ

১৯৭১ সালে আবুল বাশার কুমিল্লায় অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করেছে। ৯ মে ১৯৭১ সালে কুমিল্লা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার অর্ন্তগত বিবির বাজারে কুমিল্লা অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত হন। বিবির বাজার ছিল ভারত-বাংলাদেশ  সীমান্তে। এরমধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কুমিল্লা শহর দখল করে নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা কোনঠাসা হড়ে পড়ে। কিন্তু মনোবল হারায় না। তারা বিবির বাজারে একত্রিত হয়ে পুনরায় আক্রমনের চক কষতে থাকে। কিন্তু পাকিস্তানী বাহিনী সেখানে আক্রমণের জোর প্রস্ততি নেওয়া শুরু করে।পাকিস্তানি বাহিনী কয়েকবার মুক্তিযোদ্ধাদের বিবির বাজার অবস্থানে আক্রমণ করে। কিন্তু সমবেত মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে হানাদার বাহিনীকে পরাস্থ করে। এত করে পাকিস্তানিরা আরো বেশী পাগলা খেপাটে হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানীদের জোরালো হামলা

বিবির বাজারে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বেশীর ভাগই ছিল ইপিআর সদস্য। তারা সাহসিকতার সহিত পাক বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করতে ছিল। এতে আরো বেশঅ ক্ষিপ্ত হতে থাকে পাক বাহিনী।তারা মিলিতভাবে ভারী মেশিনগান আর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর লাগাতার হামলা করতে থাকে। এক সময় তারা বিমান হামলাও শুরু করে।

সাহসি আবুল বাশার

৯ মে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যু্দ্ধ হয়। পাক বাহিনীর এমন জোরালে আঘাতেও আবুল বাশার পিছু হটে নি। তিনি একজন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাংকারে সতর্কতার সহিত অবস্থায় করছিলেন। পাকিস্তানীদের ছুড়ে মারা  গোলা এসে পড়তে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানে। প্রায় দু-ঘন্টা প্রতিহত করার পর  মুক্তিযোদ্ধারা দেখতে পেলেন দূরে একদল পাকিস্তানি সেনা অবস্থান করছেন। পাক বাহিনীর দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে আসছে।  পিাক বাহিনীর দলটি সংখ্যায় অনেক ছিলেন। আবুল বাশার ও তাঁর সহযোদ্ধারা ভয় পেলেন না। একটি মেশিনগান আর তিন-চারটি এলএমজি নিয়েও  আবুল বাশারও ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা ভয় পাচ্ছিলেন না। তারা প্রস্তুত যে কোন সময় পাকিস্তান বাহিনীকে পাল্টা আক্রমণ করতে। যখনই পাকিস্তানীদের দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের নিকটে আসলে সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আক্রমন শুরু করলো।

হার মানতে হলো আমাদের বীরদের

মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল না কোন আধুনিক অস্ত্র। সাহসকে পুঁজি করে প্রতিহত করেছে প্রতিপক্ষ দলকে। পাকিস্তানি বাহিনীর দলটিতে যখনই প্রতিহত করতেছির ছিল দক্ষতার সহিত কখনই পাক বাহিনী আরো বেশী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা শুরুর করলো। পাকিস্তানিদের ভারী অস্ত্রের দাপটে মুক্তিযোদ্ধারা কোণঠাসা হয়ে পড়লেন। এক পর্যায়ে পাক বাহিনী বিমান হামলা শুরুর করলোভ। বিমান আকাশ থেকে গুলি বর্ষণ করতে থাকল।

পাকিস্তানিদের গুলি বর্ষণে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধ পিছু হটতে বাধ্য হলেও। কিন্তু মনোবল হারালেন না আবুল বাশারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকলেন।

ভারী অস্ত্রের বিপরীতে বেশীক্ষণ যুদ্ধ করে যেতে পারলেন না আবুল বাশাররা। পাক বাহিনীর বিমান থেকে ছোড়া কয়েকটি গুলি এসে লাগল  আবুল বাশারের মাথায়। ঢলে পড়লেন মাটিতে। শহীদ হলেন তিনি।

সমাধি

৯ মে ১৯৭১ সালের সেই সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হোন আমাদের আবুল বাশার সহ আরো কয়েকজন শহীদ হন। আহত হোন ১০-১২ জন মুক্তিযোদ্ধা। পরে সহযোদ্ধারা আবুল বাশারের লাশ উদ্ধার করে বিবির বাজারেই সমাহিত করেন।

সম্মানা

বীর বীক্রম

আমরা এই মহান ব্যক্তির দেশের প্রতি অবদানকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণকরে যাব সারা জীবন।

আরো পড়তে পারেনঃ

(Visited 263 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *