শহীদ নূরুল হক || বীর উত্তম || আমাদের গর্ব

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নোয়াখালীর বীর সন্তান শহীদ নুরুল হক এর অবদান অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে। আমাদের নোয়াখালী জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আমরা একটা তথ্য ভান্ডার করার চিন্তা করছি।এর আগে আমরা জেনেছি শহীদ এরশাদ আলী সম্পর্কে। আসুন আজকে জেনে নিই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল হকের কথা।

নাম‍          

নূরুল হক

 

জন্মস্থান

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামে

 

জন্ম‍ সালঃ

অজানা

 

যে কারণে পরিচিত

নোয়াখালী জেলার একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ  উপাধি “বীর উত্তম”  উপাধিতে ভূষিত।

 

পরিবার পরিচিতি

পিতা: আবদুল কাদের

মাতাঃ শামসুন নাহার

স্ত্রীঃ নূর নেছা

 

কর্মজীবন

 

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন । ১৯৭০ সালে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে বিয়ে করেন।

 

মুক্তিযুদ্ধে যোগদানঃ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী এই দেশের নিরীহ মানুষের উপর বর্বর হামলা করেছে তখন নুরুল হক দেশেরই ছিলেন। ধীরে ধীরে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে তিনি আর চাকরিতে যোগ দেননি।এক দিকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী অন্য দিকে দেশ মাতৃকার প্রতি কর্তব্যবোধ প্রতিনিয়ত নুরুল হককে দ্বিদ্বায় ফেলে দিল। কিন্তু নিজের কর্তব্যকে প্রাধাণ্য দিয়ে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে ঘরে রেখে অংশগ্রহণ করেন যুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে যুদ্ধ করেন।

 

পাকিস্তান হানাদারদের মোকাবেলা

 

১৯৭১ সালের শেষের দিকে এসে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের মনোবল একেবারে তলানিতে নিয়ে এসেছিল। মুক্তিবাহিনীর সাহসিক আক্রমনে পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় পিছুহাটতে শুরু করে। নুরুল হক তখন সিলেট জেলায় মুক্তিবাহিনীর সাথে অবস্থান করছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী এককভাবে রাধানগরে আক্রমণ করে। মুক্তিবাহিনীর সাহসিক অভিযানে রাধানগরের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরাস্ত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান দখল করে নেন। এই যুদ্ধে নূরুল হকসহ বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা অসীম সাহস ও বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।

 

পাকিস্তানিদের পাল্টা আক্রমন

 

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাস্ত হয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থান ত্যাগ করলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়। ২৮ নভেম্বর সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর কয়েক দিন ধরে যুদ্ধ হয়। সেখানে পাকবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান ছিল বেশ শক্তিশালী। প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিল দুর্ধর্ষ প্রকৃতির ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ও টসি ব্যাটালিয়ন। ঐদিন সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি গোলাবর্ষণ করে সেখানে পাল্টা আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারাও পাকিস্তানিদের যেকোনো ধরনের প্রতিহামলা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল।প্রতিটি প্লাটুন এবং সেকশনকে আলাদাভাবে ভাগ করে কমান্ডপোষ্ট এলাকায় অবস্থান নিতে বলা হয়। সকাল ৭টা ১০ মিনিটের সময় মুক্তিযোদ্ধারা যার যার অবস্থানে অবস্থান নেয়।

 

শহীদ হলেন নুরল হক

 

মুকিাযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে সতর্কতার সহিত নিজ নিজ জায়গা অবস্স্থান করছিল। সকাল ৮টার দিকে পাকিস্তানিরা পালটা হামলা শুরু করে দিল। প্রথম প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পাকিস্থানিরা একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের ওপর গোলা নিক্ষেপ করছিল। তাদের ভারী অস্ত্রের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা বেকাদায় পড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু মুক্তিযোদ্ধাদের দখলকৃত বাংকারগুলো মজবুত ছিল সে রকম কোন ক্ষতি হয়নি। হঠাৎ একটি গোলা এসে কমান্ডপোস্টের বাঁশঝাড়টির অধিকাংশ বাঁশই টুকরো করে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। এ সময় নূরুল হকের দেহটিও টুকরো টুকরো হয়ে চারদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায়। শরীর খণ্ডবিখণ্ড হয়। তখন নূরুল হক গোলার আঘাতে শহীদ হন। এ সময় তিনি তাঁর অধিনায়ক এস আই এম নূরুন্নবী খান (বীর বিক্রম) এর কাছেই ছিলেন

 

সম্মানা

বীর উত্তম

 

যতদিন বাংলাদেশের অস্তিত থাকবে ততদিন শহীদ নূরুল হক বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।

 

(Visited 314 times, 1 visits today)
Share this story with your friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *